Wednesday, 1 July 2026

নাটক👉 মোহভঙ্গ। রচনাঃকিশোর দুলাল রায়


নাটকঃ মোহভঙ্গ 
রচনাঃ কিশোর দুলাল রায় 

চরিত্রসমূহ:

১. আসলাম (৩৫): বড় ভাই। সরকারি বা কর্পোরেট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। একটু অহংকারী, তবে স্ত্রীর কথায় ওঠাবসা করে।

২. সুলতানা (৩০): বড় ভাইয়ের বউ। অহংকারী, লোভী এবং সংসারের সব অশান্তির মূল।

৩. আরিফ (২৮): ছোট ভাই। সৎ, শান্ত এবং অল্প আয়ের চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিং করে।

৪. মিতু (২৩): ছোট ভাইয়ের বউ। ধৈর্যশীল, পরোপকারী ও বাস্তববাদী।

৫. মা (৬০): দুই ভাইয়ের বৃদ্ধ মা (প্রয়োজনে রাখা হয়েছে গভীরতা তৈরির জন্য)।

​দৃশ্য ১

স্থান: ড্রয়িং রুম ও ডাইনিং টেবিল।

সময়: সকাল।

(টেবিলে নাস্তা সাজানো। সুলতানা দামি শাড়ি পরে বসে আছে। মিতু রান্নাঘর থেকে চা আর রুটি নিয়ে আসছে। আসলাম ডাইনিং টেবিলে বসে মোবাইল দেখছে। আরিফ তাড়াহুড়ো করে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে।)

সুলতানা: (চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মুখ বাঁকিয়ে) মিতু, চায়ের চিনিটা আজকেও কম হয়েছে। কতবার বলব, একটু রয়েসয়ে কাজ করবে? নাকি আমাদের টাকায় চিনি কেনা হয় বলে ইচ্ছে করে নষ্ট করছ?

মিতু: (নম্রভাবে) না আপা, ভাইয়ার ডায়াবেটিসের কথা চিন্তা করে চিনিটা একটু কম দিয়েছি। আপনার কাপে আলাদা চিনি দেব?

সুলতানা: লাগবে না। বাহানার তো শেষ নেই। নিজেরা তো সংসারে একটা টাকাও দিতে পারো না, শুধু বড় ভাইয়ের ঘাড়ে বসে খাওয়া!

আরিফ: (জুতো পরতে পরতে) ভাবি, আমি কিন্তু প্রতি মাসে আমার সাধ্যমতো বাজারের টাকা দিই। হ্যাঁ, ভাইয়ার মতো অত দিতে পারি না, তবে একদম দিই না—এটা বলা ভুল।

আসলাম: (ভাব নিয়ে) থাক আরিফ, তর্ক করো না। তোমার ভাবি ভুল কিছু বলেনি। এই যে ফ্ল্যাটের ভাড়া, এসি, কারেন্ট বিল—সব তো একাই আমাকে টানতে হয়। তোমার ওই সামান্য ১০-১৫ হাজার টাকার চাকরিতে কি আর সংসার চলে?

মিতু: ভাইয়া, আমরা তো আলাদা হতে চেয়েছিলাম। আপনারাই তো বললেন একসাথে থাকতে।

সুলতানা: ওহ, এখন আবার আমাদের দোষ? আলাদা থাকার মুরোদ আছে নাকি তোমাদের? এই শহরে বাড়ি ভাড়া দিয়ে তিন বেলা ঠিকমতো খেতে পারতে না! আসলাম, তুমি এদের বেশি মাথায় তুলছ।

আসলাম: বাজারটা আজ একটু ভালো করে করো আরিফ। আমার ক্লায়েন্ট আসবে রাতে। আর সুলতানা, তোমার জন্য ওই গয়নাটা আজই বুকিং দিয়ে দেব।

সুলতানা: (খুশি হয়ে) থ্যাংক ইউ জান! শুনলে তো মিতু? একেই বলে পুরুষ মানুষ। কামাই করতে জানতে হয়।

(আরিফ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিতুর দিকে তাকায়। মিতু ইশারায় শান্ত হতে বলে। আরিফ বেরিয়ে যায়।)

​দৃশ্য ২

স্থান: আরিফ ও মিতুর বেডরুম।

সময়: রাত।

(আরিফ ক্লান্ত হয়ে বিছানায় বসে আছে। মিতু তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।)

আরিফ: মিতু, মাঝে মাঝে নিজেকে খুব ব্যর্থ মনে হয়। বড় ভাবির ওই কথাগুলো আর সহ্য হয় না। ভাইয়াও কেমন যেন বদলে গেছে। টাকার গরমে অন্ধ।

মিতু: তুমি মন খারাপ করো না। মানুষের দিন সবসময় একরকম যায় না। তুমি তো সততার সাথে চেষ্টা করছ। ভাইয়ার চাকরিটা বড়, কিন্তু আমার কেন যেন ইদানীং ভয় করে।

আরিফ: কেন, কী হয়েছে?

মিতু: ভাইয়া ইদানীং বাসায় অনেক ক্যাশ টাকা নিয়ে আসে। সেদিন আলমারিতে দেখলাম লাখ লাখ টাকা। একজন সৎ চাকরিজীবীর কাছে এত নগদ টাকা থাকার কথা নয়।

আরিফ: আমি ভাইয়াকে বুঝিয়েছিলাম। কিন্তু ভাইয়া উল্টো আমাকে ধমক দিয়ে বলেছে—"আগে টাকা কামাতে শেখ, তারপর জ্ঞান দিবি।" স্রষ্টা সবাইকে হেদায়েত করুন।

​দৃশ্য ৩

স্থান: আসলামের ড্রয়িং রুম।

সময়: বিকেল (কয়েক মাস পর)।

(ড্রয়িং রুমে আসলাম ও সুলতানা বসে আছে। সুলতানার হাতে বেশ কিছু নতুন শপিং ব্যাগ। সে খুব উৎফুল্ল।)

সুলতানা: এই দেখো আসলাম, আজ এই ডায়মন্ডের নেকলেসটা কিনলাম। ভাবি দেখলেই একদম হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরবে।

আসলাম: (একটু চিন্তিত, মোবাইলে বারবার কল দেখছে) হুম, ভালো। তবে সুলতানা, ইদানীং অফিস থেকে একটু চাপ আসছে। অডিটর বসেছে।

সুলতানা: ধুর! ওসব অডিট-ফডিট প্রতি বছরই আসে। তুমি তো ম্যানেজ করতে জানোই। আচ্ছা, মিতুকে দিয়ে এক কাপ কফি পাওয়া যাবে? ওর আবার শরীর খারাপ নাকি, ঘরে বসে আছে।

(ঠিক এই সময় দরজার বেল বেজে ওঠে। মিতু দরজা খোলে। হুড়মুড় করে সিভিল ড্রেসে চার-পাঁচজন পুলিশ এবং আসলামের অফিসের ডিরেক্টর ভেতরে ঢোকেন।)

অফিসার: আসলাম সাহেব কে?

আসলাম: (কেঁপে উঠে) হ্যাঁ, আমি। কী ব্যাপার?

ডিরেক্টর: আসলাম সাহেব, আপনার বিরুদ্ধে অফিসের ৫০ লাখ টাকা তছরুপ এবং ঘুষ নেওয়ার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। ম্যানেজমেন্ট আপনাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সুলতানা: (চিৎকার করে) কী বলছেন এসব! ভুল হচ্ছে কোথাও! আমার স্বামী এমন করতেই পারে না!

অফিসার: আমাদের কাছে ওয়ারেন্ট আছে। আসলাম সাহেব, চলুন।

(পুলিশ আসলামকে হাতকড়া পরায়। আসলাম মাথা নিচু করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সুলতানা সোফায় বসে পড়ে কাঁদতে থাকে। মিতু হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।)

​দৃশ্য ৪

স্থান: ড্রয়িং রুম (আসলামের গ্রেফতারের এক মাস পর)।

সময়: দুপুর।

(ঘরটা এখন ফাঁকা ও নিস্তব্ধ। দামি সোফা বা শোপিসগুলো নেই, ঋণ শোধ করতে বিক্রি করা হয়েছে। সুলতানা সাধারণ একটা সুতি শাড়ি পরে মুখ কালো করে বসে আছে। মিতু ঘর গুছাচ্ছে।)

সুলতানা: (কান্নাজড়িত কণ্ঠে) আমার কপালটাই পুড়ল। আসলামের জামিনও হচ্ছে না, জমানো সব টাকা উকিল আর দেনা শোধ করতেই শেষ। এই ফ্ল্যাটের ভাড়াই বা কে দেবে? আমাদের তো না খেয়ে রাস্তায় বসতে হবে!

মিতু: (সুলতানার পাশে এসে মাথায় হাত রাখে) ভাবি, ভেঙে পড়বেন না। আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। ভাইয়ার এই শাস্তিটা হয়তো উনাকে নতুন করে বাঁচতে শেখাবে। আর আমরা তো রাস্তায় বসিনি, আমরা আছি তো।

সুলতানা: (মুখ সরিয়ে নিয়ে) তোমরা? আরিফের ওই সামান্য টাকায় এই সংসার চলবে? এখন তো তোমরা আমাদের তাড়িয়ে দেবে, আমি জানি। আমি তোমার সাথে যা ব্যবহার করেছি...

মিতু: আমরা তেমন মানুষ নই ভাবি। বিপদে পরিবারই তো পরিবারের পাশে দাঁড়ায়।

​দৃশ্য ৫

স্থান: ডাইনিং টেবিল।

সময়: রাত।

(টেবিলে খুব সাধারণ ডাল, ভাত আর সবজি। আরিফ অফিস থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুয়ে টেবিলে বসে। মিতু খাবার বেড়ে দিচ্ছে। সুলতানা অপরাধীর মতো এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে।)

আরিফ: ভাবি, দাঁড়িয়ে আছেন কেন? বসুন, একসাথে খাই।

সুলতানা: না আরিফ, তোমরা খাও। আমার ক্ষুধা নেই।

আরিফ: শুনুন ভাবি। অতীত ভুলে যান। ভাইয়া অন্যায় করেছিল, তার শাস্তি হচ্ছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের সংসার ভেঙে যাবে। আমি এই এক মাসে আমার চাকরিতে প্রমোশন পেয়েছি, পাশাপাশি একটা পার্ট-টাইম প্রজেক্টের কাজ পেয়েছি। এখন থেকে সংসারের দায়িত্ব আমার।

সুলতানা: (চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে) আমাকে মাফ করে দাও আরিফ। আমি টাকার গরমে অন্ধ হয়ে তোমাদের কত অপমান করেছি। আর আজকে আমার এই বিপদে তোমরাই আমাকে আগলে রাখলে!

আরিফ: আপনি আমার বড় ভাবি, মায়ের মতো। আর মিতু, তুমি কালকেই এই ফ্ল্যাট ছেড়ে আমাদের বাজেটের মধ্যে একটা ছোট কিন্তু সুন্দর ফ্ল্যাট দেখে রাখবে। আমরা নতুন করে শুরু করব।

মিতু: (হেসে) আমি আজকেই একটা ফ্ল্যাট দেখে এসেছি। ঘরটা ছোট, কিন্তু আমাদের সবার মনটা বড় হলে ওখানেই অনেক সুখ হবে।

(সুলতানা মিতুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। আরিফ মিতুর দিকে তাকিয়ে হাসে। একটা সুন্দর পারিবারিক আবহের মধ্য দিয়ে নাটকটি শেষ হয়।)

...সমাপ্ত...

নাটকঃ সংসার। রচনাঃকিশোর দুলাল রায়

নাটকের নাম: সংসার

রচনাঃ কিশোর দুলাল রায় 

চরিত্রসমূহ:

১. রহমান সাহেব (৬০): অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবী। পরিবারের বটগাছ।

২. রাবেয়া বেগম (৫৫): রহমানের স্ত্রী। সংসারী, কিছুটা অভিমানী কিন্তু মমতাময়ী।

৩. আসিফ (২৮): বড় ছেলে। কর্পোরেট চাকরি করে, সারাক্ষণ ব্যস্ত ও মানসিক চাপে থাকে।

৪. মিতু (২৪): আসিফের স্ত্রী। আধুনিক কিন্তু দায়িত্বশীল।

৫. আকাশ (২২): ছোট ছেলে। ভার্সিটিতে পড়ে, কিছুটা চঞ্চল ও আবেগপ্রবণ।

দৃশ্য ১: সকালের চায়ের টেবিল (হাসি ও খুনসুটি)

সময়: সকাল ৮:০০ টা।

স্থান: ড্রয়িং কাম ডাইনিং রুম।

(মঞ্চ বা স্ক্রিন ওপেন হতেই দেখা যাবে রাবেয়া বেগম টেবিলে নাস্তা রাখছেন। রহমান সাহেব চশমা নাকে দিয়ে পত্রিকা পড়ছেন। আকাশ এসে ডাইনিং চেয়ারে ধপ করে বসল।)

আকাশ: মা! ও মা! জলদি খেতে দাও। আজকে ভার্সিটিতে প্রেজেন্টেশন আছে। লেট হলে স্যার কুচকুচ করে নাম্বার কেটে দেবে!

রাবেয়া: (রান্নাঘর থেকে আসতে আসতে) চিল্লাসনে তো সকাল সকাল। এই নে তোর ডিম পোচ আর পরোটা। তোর বড় ভাইয়া আর বৌমা কই?

আকাশ: ভাইয়া তো ওয়াশরুমে বসেও মনে হয় ল্যাপটপে টাইপ করে। আর ভাবি বোধহয় সাজগোজ করছে।

রহমান: (পত্রিকা থেকে চোখ সরিয়ে) আকাশ, বড়দের নিয়ে ওভাবে কথা বলতে নেই। আর তোর পড়াশোনার কী খবর? খালি তো দেখি গিটার নিয়ে টুংটাং করিস।

আকাশ: আব্বা, মিউজিক হলো আত্মার খোরাক। তুমি বুঝবে না।

(এমন সময় আসিফ ফোনে কথা বলতে বলতে তাড়াহুড়ো করে ঢোকে। তার পেছনে মিতু পানির বোতল আর টিফিন বক্স নিয়ে আসে।)

আসিফ: (ফোনে) হ্যাঁ স্যার, আমি জ্যামে পড়ার আগেই পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। ফাইলটা রেডি। (ফোন রেখে) মা, আমি শুধু এক কাপ চা খাব। নাস্তা করার সময় নেই।

মিতু: আসিফ, খালি পেটে অফিসে গেলে আবার গ্যাস্ট্রিকের ব্যথায় চিল্লাবে। দুটো মুখে দাও।

আসিফ: (বিরক্ত হয়ে) মিতু, প্লিজ! চিল্লাই আমি? তুমি বুঝবে না আমার কাজের প্রেশার কত!

রাবেয়া: (ধমকের সুরে) আসিফ! মিতুর ওপর এভাবে ঝাড়ছিস কেন? ও তো তোর ভালোর জন্যই বলছে।

রহমান: থাক মা মিতু, ওকে জোর করো না। ও এখন বড় অফিসার, আমাদের কথার দাম ওর কাছে কম।

(আসিফ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চা না খেয়েই ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যায়। মিতুর মুখটা কালো হয়ে যায়। আকাশ পরিস্থিতি হালকা করতে গান গেয়ে ওঠে— "সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে..."। রাবেয়া আকাশকে হালকা চড় মারে। সবাই হেসে ওঠে, কিন্তু মিতুর হাসির পেছনে একটা চাপা কষ্ট লুকিয়ে থাকে।)

দৃশ্য ২: মধ্যরাত (অফিসের চাপ ও দূরত্ব)

সময়: রাত ১১:৩০ টা।

স্থান: আসিফ ও মিতুর বেডরুম।

(মিতু বিছানায় বসে বই পড়ছে। আসিফ রুমে ঢোকে। টাইটা আলগা করে বিছানায় ক্লান্ত হয়ে বসে।)

মিতু: ফ্রেশ হয়ে নাও, খাবার গরম করে আনছি।

আসিফ: ক্ষুধা নেই মিতু। ক্লায়েন্ট মিট ছিল, ওখানেই খেয়েছি।

মিতু: (বইটা বন্ধ করে) প্রতিদিন একই কথা। এই পরিবারে তোমার ভূমিকাটা ঠিক কী আসিফ? শুধু টাকা পাঠানো? বাবা-মা তোমার সাথে দুটো কথা বলার জন্য বসে থাকে। আর আমার সাথে তো তোমার কথাই হয় না।

আসিফ: (উত্তেজিত হয়ে) মিতু, আমি কি বাইরে গিয়ে মার্বেল খেলি? এই যে এত বড় ফ্ল্যাটের ইএমআই, বাবার ওষুধের খরচ, আকাশের সেমিস্টার ফি—এগুলো কোথা থেকে আসে? আমি রোবটের মতো খাটছি এই সংসারের জন্য!

মিতু: সবাই টাকা চায় না আসিফ, একটু সময় চায়। একটু মানসিক শান্তি চায়। তোমার এই রুক্ষ ব্যবহার একটা দিন এই সংসারটাকে ভেঙে দেবে।

আসিফ: ভেঙে দিলে দিক! আমি ক্লান্ত। প্রতিদিনের এই ঘ্যানঘ্যান আমার আর ভালো লাগে না!

(আসিফ বালিশ নিয়ে সোফায় গিয়ে শোয়ার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। মিতু বিছানায় মুখ লুকিয়ে কাঁদতে শুরু করে। পাশের ঘর থেকে রহমান সাহেব ও রাবেয়া বেগম এই ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পান। দুজনের মুখেই চরম উদ্বেগের ছাপ।)

দৃশ্য ৩: আকস্মিক ঝড় (বেদনা ও আবেগ)

সময়: দুপুর ২:০০ টা (কয়েকদিন পর)।

স্থান: ড্রয়িং রুম।

(হঠাৎ কলিং বেল জোরে বাজতে থাকে। আকাশ হন্তদন্ত হয়ে দরজা খোলে। দেখে মিতু কাঁদছে, তার হাত কাঁপছে।)

আকাশ: ভাবি! কী হয়েছে? তুমি কাঁদছ কেন?

মিতু: (কেঁদে ফেলে) আকাশ... আব্বা... আব্বা অফিসে যাওয়ার পথে হঠাৎ বুকে হাত দিয়ে রাস্তায় পড়ে গেছেন। মানুষজন ওনাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

রাবেয়া: (ভেতর থেকে এসে চিৎকার করে ওঠেন) একী বলছিস তোরা! আমার কর্তার কী হয়েছে? ও আল্লাহ!

(পুরো পরিবারে স্তব্ধতা নেমে আসে। আকাশ তৎক্ষণাৎ আসিফকে ফোন দেয়।)

আকাশ: (ফোনে) ভাইয়া! জলদি ল্যাবএইড হসপিটালে আসো। আব্বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে! সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে।

[স্থান পরিবর্তন: হাসপাতালের করিডোর]

(সবাই করিডোরে অপেক্ষা করছে। রাবেয়া বেগম জায়নামাজে বসে কাঁদছেন। আসিফ ছুটে আসে। তার চুল উসকোখুসকো, চোখে জল।)

আসিফ: মা! আব্বা কেমন আছে? ডাক্তার কী বলল?

আকাশ: (রাগ ও ক্ষোভে) এখন এসে কী হবে ভাইয়া? আব্বা গত তিনদিন ধরে বুক ব্যথার কথা বলছিল। তুমি তো ল্যাপটপ থেকে চোখ সরানোর সময় পাওনি! আব্বা বলছিল, "আমার বড় ছেলেটা এত ব্যস্ত, ওরে ডিস্টার্ব করিস না।"

আসিফ: (স্তব্ধ হয়ে যায়) আব্বা... আব্বা এ কথা বলেছে?

মিতু: (এগিয়ে এসে) হ্যাঁ আসিফ। তুমি এই সংসারের জন্য টাকা রোজগার করেছ সত্যি, কিন্তু সংসারের মানুষগুলোর দিকে তাকানোর সময় তোমার ছিল না। আজ যদি বাবার কিছু হয়ে যায়, তুমি কি তোমার টাকা দিয়ে বাবাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে?

(আসিফ হাসপাতালের দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে বুঝতে পারে, ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে সে কতটা একা হয়ে গেছে এবং তার আসল সম্পদকে অবহেলা করেছে।)

দৃশ্য ৪: পুনর্মিলন (সুখ ও উপলব্ধি)

সময়: তিন সপ্তাহ পর, বিকেল ৫:০০ টা।

স্থান: বাড়ির ছাদ বা বারান্দা (যেখানে গাছপালা আছে)।

(রহমান সাহেব এখন সুস্থ। তিনি একটা ইজি চেয়ারে বসে আছেন। রাবেয়া বেগম পাশে বসে ওনাকে ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। আকাশ কোণায় বসে গিটার টিউন করছে। মিতু চা নিয়ে আসে। আসিফ অফিস থেকে আজ অনেক তাড়াতাড়ি ফিরেছে। তার হাতে এক ঠোঙা জিলিপি আর বাবার প্রিয় বেলি ফুলের মালা।)

আসিফ: (বাবার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে) আব্বা, আজকে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি চলে এলাম। আপনার পছন্দের গরম গরম জিলিপি এনেছি। আর মায়ের জন্য বেলি ফুল।

রাবেয়া: (মুচকি হেসে) সূর্য আজ কোন দিকে উঠেছিল রে বাবা?

রহমান: (আসিফের হাতটা ধরে) তোকে আজ অনেকদিন পর শান্ত দেখাচ্ছে বাবা। অফিস থেকে ছুটি পেয়েছিস?

আসিফ: না আব্বা। বসকে বলে দিয়েছি—দিনের শেষে কাজটা আমার পেশা, কিন্তু আপনারা আমার প্রাণ। জীবনের ব্যালেন্সটা করতে বড্ড দেরি করে ফেলেছিলাম। মিতু, আমাকে মাফ করে দিও।

(মিতু চোখের কোণের জল মুছে হেসে ফেলে এবং আসিফের হাতে চায়ের কাপ দেয়। আকাশ গিটার বাজিয়ে আনন্দের সুর তোলে।)

রহমান: (সবার দিকে তাকিয়ে) সংসার মানে শুধু একটা ছাদের নিচে থাকা নয়। সংসার হলো একে অপরের সুখ-দুঃখে ভাগীদার হওয়া, একে অপরের ভুলগুলো ক্ষমা করে দেওয়া। আজ আমার সংসারটা সত্যি পূর্ণ হলো।

(সবাই একসাথে হাসিমুখে ফ্রেমবন্দি হয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি আবেগঘন হালকা সুর বাজতে থাকে।)

-- সমাপ্ত --

নাটকঃ- হৃদয়ে হালকা বৃষ্টি_লেখকঃ কিশোর দুলাল রায়

হৃদয়ে হালকা বৃষ্টি

সময়সীমা: ৬০ মিনিট (১ ঘণ্টা)

চরিত্রসমূহ:

১. আকাশ (২৫): কর্পোরেট চাকরিজীবী। গোছানো, একটু গম্ভীর স্বভাবের হলেও মেঘলার পাগলামির ভীষণ ভক্ত।

২. মেঘলা (২২): ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। চটপটে, বাচাল, ইমোশনাল এবং অসম্ভব হাসিখুশি।

৩. শুভ (২৫): আকাশের বন্ধু। সমঝদার এবং দুজনের সম্পর্কের মাঝে অনুঘটক।

৪. ওয়েটার/রিকশাওয়ালা: পার্শ্বচরিত্র।

দৃশ্য ১: ক্যাফেটেরিয়া (সময়: ২০ মিনিট)

(প্রেক্ষাপট: বিকেল বেলা। ক্যাফের এক কোণে আকাশ বসে আছে। টেবিলে ল্যাপটপ খোলা, সে বারবার ঘড়ি দেখছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে মৃদু ক্যাফে মিউজিক। মেঘলা হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে ঢুকল। তার চুল কিছুটা এলোমেলো।)

আকাশ: (ল্যাপটপ বন্ধ করতে করতে, গম্ভীর গলায়) বাহ! অবশেষে ম্যাডামের পায়ের ধুলো পড়ল! ঘড়ির কাঁটাটা কি তোমার চেনা-জানার বাইরে থাকে মেঘলা? বিকেল ৫টায় আসার কথা ছিল, এখন সন্ধ্যা ৬টা ২০! পুরো এক ঘণ্টা বিশ মিনিট লেট!

মেঘলা: (ধপ করে চেয়ারটায় বসে, ব্যাগটা টেবিলে রেখে হাফ ছাড়ল) উফ আকাশ! তুমি একটা আস্ত রোবট। তুমি দেখছ আমি ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট লেট করেছি। আর আমি ভাবছি, এই ব্যস্ত শহরে একটা ছেলে আমার জন্য ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে একাসনে বসে অপেক্ষা করছে! ভাবলেই হৃদয়ে কেমন হালকা বৃষ্টি নেমে যাচ্ছে! কী গভীর প্রেম!

আকাশ: (হাঁ করে তাকিয়ে) বাহ! চোরের মায়ের বড় গলা! এই ডায়লগ দিয়ে আর কতদিন চালাবে? তা এতক্ষণ কী করছিলে শুনি? আবার কোনো বিড়াল ছানাকে রাস্তা পার করাচ্ছিলে? নাকি ট্রাফিক জ্যাম?

মেঘলা: (একটু হেসে, চুলগুলো কানের পিছে গুজে) উঁহু, আজ জ্যামের দোহাই দেব না। সত্যি বলব? আসার সময় না... নিউ মার্কেটের মোড়ে একটা শাড়ি দেখছিলাম। হালকা নীল রঙের, জমিনটা ঠিক তোমার এই আকাশের মতো। ভাবছিলাম শাড়িটা পরে যখন তোমার সামনে আসব, তুমি নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক করবে! ওটা দেখতে গিয়েই...

আকাশ: (মনে মনে খুশি হলেও মুখে রাগ দেখিয়ে) শাড়ি দেখতে গিয়ে এত দেরি? তা কিনেছ?

মেঘলা: (কাছে ঝুঁকে, ফিসফিস করে) না তো! পকেটে তো গড়ের মাঠ। ভাবলাম, রাগ ভাঙানোর জন্য আগে তোমাকে দেখাই, তারপর তোমার পকেট থেকেই... (মিষ্টি করে হাসল)।

আকাশ: (মাথা নেড়ে) বুঝেছি, আমার পকেটে আজ সত্যিই হালকা বৃষ্টি নয়, একেবারে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাবে!

(ওয়েটারকে ডেকে) ওয়েটার, একটা কোল্ড কফি, একটা ব্ল্যাক কফি আর দুটো ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিন তো জলদি।

মেঘলা: (অবাক হয়ে) তুমি ব্ল্যাক কফি খাবে কেন? তুমি তো তেতো জিনিস সহ্যই করতে পারো না!

আকাশ: কেন পারব না? তোমার এই যে রোজকার তেতো তেতো কথা আর লেট করার বাহানা যদি আমি বছরের পর বছর সহ্য করতে পারি, তবে ব্ল্যাক কফি তো সামান্য জলভাত!

মেঘলা: (মুখ বাঁকিয়ে) ও আচ্ছা! এতই যখন তেতো লাগে, তবে ঝাল-মিষ্টি কোনো মেয়ের কাছে গেলেই পারো। কে বারণ করেছে?

আকাশ: (একটু নরম সুরে, মেঘলার দিকে তাকিয়ে) চেষ্টা করেছিলাম তো। কিন্তু সমস্যা হলো, অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকালেই এই মেঘলা আকাশটার কথা মনে পড়ে যায়। আর তখন মনে হয়, ঝাল-মিষ্টির চেয়ে এই মেঘ-বৃষ্টির অত্যাচারটাই অনেক বেশি সুন্দর।

মেঘলা: (লজ্জা পেয়ে হেসে ফেলল, টেবিলের ওপর রাখা আকাশের হাতের ওপর নিজের হাত রাখল) আচ্ছা খড়কুটো মশাই, রাগ কমেছে?

আকাশ: কফিটা আসুক, তারপর ভাবব। তবে একটা শর্ত আছে। বিলটা কিন্তু আজ তুমি দেবে!

মেঘলা: (চোখ কপালে তুলে) ওরে বাবা! প্রেমিকের এই কিপটে রূপ তো জানা ছিল না! ঠিক আছে, বিল আমিই দেব। কিন্তু আমার ব্যাগে তো শুধু ৫০০ টাকার একটা নোট আছে, বাকিটা তোমার পকেট থেকেই 'উধার' নেব!

(দুজনেই হেসে ওঠে। কফি আসে। তারা গল্প করতে করতে কফি খায়। আলো ধীরে ধীরে কমে আসে।)

দৃশ্য ২: রিকশায় খুনসুটি (সময়: ১৫ মিনিট)

(প্রেক্ষাপট: রাস্তা। সন্ধ্যা নেমেছে, রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো জ্বলছে। আকাশ আর মেঘলা একটা রিকশায় বসে আছে। রিকশা চলছে হুড ফেলা অবস্থায়। ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা ট্রাফিকের শব্দ আর রোমান্টিক আবহ সঙ্গীত।)

মেঘলা: (আকাশের কাঁধে মাথা রেখে) আকাশ, আচ্ছা আমাদের যখন বিয়ে হবে, আমরা রোজ সন্ধ্যায় এভাবে রিকশায় ঘুরব তো?

আকাশ: (হেসে) রোজ সন্ধ্যায় ঘুরলে তো অফিস থেকে আমাকে বের করে দেবে। তখন রিকশার ভাড়ার টাকা কে দেবে? তুমি টিউশনি করে চালাবে?

মেঘলা: (আকাশের চিমটি কেটে) তুমি একটা আস্ত আন-রোমান্টিক মানুষ! এই সুন্দর মুহূর্তে কেউ চাকরির কথা বলে? আমি এত সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছি, আর তুমি সেটাকে লাথি মেরে ভেঙে দিলে!

আকাশ: আচ্ছা বাবা ভুল হয়েছে। রোমান্টিক স্বপ্ন দেখো। তা রিকশায় ঘোরার পর আর কী করবে তোমার স্বপ্নে?

মেঘলা: তারপর আমরা একটা ছোট বাড়ি ভাড়া করব। বারান্দায় থাকবে অনেকগুলো মানিপ্ল্যান্ট আর গোলাপ গাছ। প্রতিদিন সকালে তুমি যখন ঘুমে থাকবে, আমি গাছের পাতা থেকে জল নিয়ে তোমার মুখে ছিটিয়ে দেব!

আকাশ: (ভয় পাওয়ার ভংগি করে) ওরে বাবা! ওটা সকালের রোমান্স হবে না, ওটা হবে থ্রিলার সিনেমা! এমনিতেই সকালে আমার ঘুম ভাঙতে চায় না, তার ওপর ঠান্ডা জল!

মেঘলা: (অভিমান করে মুখ ফিরিয়ে) হুহ! তোমার সাথে কথাই বলব না। রিকশাওয়ালা মামা, রিকশা থামান, আমি নেমে যাব।

রিকশাওয়ালা: (পেছনে তাকিয়ে হেসে) আপা, নামবেন না। স্যারে তো আপনেরে ভালোবাসেই এইরকম ঠাট্টা করতাছে। আমাগো মামীও বিয়ার আগে এইরকম রাগ করত!

আকাশ: (হেসে ফেলে রিকশাওয়ালাকে) দেখছেন মামা? আপনার মামীও এমন এক ঘণ্টা লেট করত?

রিকশাওয়ালা: ওরে স্যার! হেয় তো আইতই না! তিন ঘণ্টা খাড় করায়া রাখত।

মেঘলা: (হেসে ফেলে আকাশের হাত জড়িয়ে ধরে) দেখেছ? আমি তো মাত্র এক ঘণ্টা বিশ মিনিট লেট করেছি। সেই তুলনায় আমি কত ভালো! এখন বলো, আমাকে একটা আইসক্রিম খাওয়াবে কি না?

আকাশ: (পকেটে হাত দিয়ে) মানিব্যাগের অবস্থা তো এমনিতেই করুণ, তার ওপর আবার আইসক্রিম! আচ্ছা চলো, আজ পকেট পুরো খালিই হোক।

দৃশ্য ৩: বন্ধুর এন্ট্রি ও ভুল বোঝাবুঝি (সময়: ১৫ মিনিট)

(প্রেক্ষাপট: একটি পার্ক বা রাস্তার ধারের ফুচকার দোকান। সেখানে আকাশের বন্ধু শুভর সাথে দেখা হয়। শুভ একটু রসিক টাইপের ছেলে।)

শুভ: (আকাশকে দেখে) আরে আকাশ! কী খবর? আর পাশে এটি কে? আমাদের ভাবী সাহেব নাকি?

আকাশ: (হেসে) হ্যাঁ রে। এই হলো মেঘলা। আর মেঘলা, এ হলো শুভ—আমার কলেজের বন্ধু আর পৃথিবীর এক নম্বর আড্ডাখোর।

মেঘলা: (নমস্কার/সালাম জানিয়ে) ভালো আছেন ভাইয়া? আকাশ আপনার কথা অনেক বলেছে।

শুভ: ভালো আছি ভাবী। তবে আকাশ নিশ্চয়ই আমার বদনাম করেছে? ও তো নিজেই একটা কিপটে। আচ্ছা ভাবী, ও কি আপনাকে এখনো সেই কলেজের পুরোনো ডায়লগটাই মারে? ওই যে—'তুমি আমার জীবনের প্রথম বৃষ্টি'?

মেঘলা: (কান খাড়া করে, আকাশের দিকে তাকিয়ে) মানে? কোন ডায়লগ? ও কি অন্য কাউকেও এই ডায়লগ দিত নাকি?

শুভ: (পরিস্থিতি গরম করার জন্য মজা করে) আরে ভাবী, আপনি জানেন না? কলেজে থাকতে ও এক মেয়েকে...

আকাশ: (শুভর মুখ চেপে ধরে) এই শুভ! একদম চুপ কর। ও সব কিছু না মেঘলা, ও বানিয়ে বলছে।

মেঘলা: (হাত সরিয়ে নিয়ে, গম্ভীর হয়ে) না আকাশ, শুদুধু ও কেন বলবে? শুভ ভাইয়া বলুন না, কে ছিল সে?

শুভ: (বুঝতে পেরে যে এবার রিয়াল ঝগড়া লেগে যাবে) আরে না ভাবী, আমি মজা করছিলাম। আকাশ তো কলেজে মেয়েদের দেখলেই পালাত। ও তো আস্ত একটা দেবদাস ছিল আপনার জন্য! আমি জাস্ট ওর একটু পা টানছিলাম।

মেঘলা: (অভিমানী গলায়) না, আমার আর ফুচকা খেতে ইচ্ছে করছে না। আকাশ, আমি বাড়ি যাব।

আকাশ: (শুভকে চোখ রাঙিয়ে) তোর জন্য আজ আমার কপালে শনি আছে! (মেঘলার দিকে তাকিয়ে) মেঘলা, শোনো... ও জাস্ট ইয়ার্কি করছিল।

মেঘলা: (হনহন করে হাঁটতে শুরু করে) কোনো কথা শুনব না। তোমরা ছেলেরা সব এক!

দৃশ্য ৪: ক্লাইম্যাক্স ও হৃদয়ে হালকা বৃষ্টি (সময়: ১০ মিনিট)

(প্রেক্ষাপট: মেঘলাদের বাড়ির গলি। আলো আঁধারি পরিবেশ। হঠাৎ করেই টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। মেঘলা ছাতা ছাড়া হাঁটছে, পেছন পেছন আকাশ আসছে।)

আকাশ: (ছুটে এসে মেঘলার হাত ধরে) মেঘলা! দাঁড়াও। এভাবে না বুঝে রাগ করে চলে যাচ্ছ কেন? শুভ সত্যি ইয়ার্কি করছিল। আমার জীবনে তুমিই প্রথম, আর তুমিই শেষ। বিশ্বাস করো।

মেঘলা: (চোখে জল, বৃষ্টির জলের সাথে মিশে যাচ্ছে) তুমি সবসময় আমার লেট করা নিয়ে রাগ দেখাও, আমি কিছু বলি? কিন্তু তুমি অন্য কারো সাথে আমাকে তুলনা করবে, ওটা আমি সহ্য করতে পারি না।

আকাশ: (মেঘলার দুই কাঁধ ধরে, খুব নরম গলায়) পাগলী একটা! এই আকাশে কি কখনো দুটো মেঘ একসাথে জমে? এই আকাশে তো শুধু একটাই মেঘলা আছে, যে সারাদিন শুধু বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে। শুভ জাস্ট আমাদের একটু রাগাতে চেয়েছিল। আই অ্যাম স্যরি, বাবা। আর কখনো এমন মজা করতে দেব না কাউকে।

মেঘলা: (আকাশের বুকে আলতো করে কিল মেরে) তুমি বড্ড দুষ্টু! আর তোমার ওই বন্ধুটা আরও বেশি খ্যাপাটে। আমার সত্যি খুব ভয় পেয়েছিল, জানো?

আকাশ: (মেঘলার কপাল থেকে ভেজা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে) ভয়ের কিছু নেই। এই যে বৃষ্টি দেখছ? এই বৃষ্টিই আমাদের সাক্ষী।

মেঘলা: (হেসে ফেলে, বৃষ্টির দিকে হাত বাড়িয়ে) সত্যি আকাশ! রাগটা কমে যেতেই মনের ভেতরে কেমন যেন শান্তি লাগছে। একদম নাটকের নামের মতো... হৃদয়ে হালকা বৃষ্টি!

আকাশ: (পকেট থেকে সেই হালকা নীল শাড়িটা বের করে, যেটা সে মেঘলার অজান্তেই ক্যাফে থেকে বের হওয়ার সময় কিনে নিয়েছিল) এই নাও। তোমার সেই 'আকাশ' রঙের শাড়ি।

মেঘলা: (অবাক হয়ে, খুশিতে চিৎকার করে) ওমা! এটা তুমি কখন কিনলে? তুমি তো ক্যাফেতে বসে বলছিলে পকেটে গড়ের মাঠ!

আকাশ: (হেসে) প্রেমিকার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এই আকাশ নিজের পকেট কেন, পুরো দুনিয়া খালি করে দিতে পারে। এবার জলদি বাড়ি যাও, নাহলে ঠান্ডা লেগে যাবে। কাল কিন্তু এই শাড়িটা পরেই আমার সামনে আসবে, মনে থাকে যেন!

মেঘলা: (শাড়িটা বুকে জড়িয়ে ধরে, মিষ্টি হেসে) উম্ম... আচ্ছা, কাল ঠিক বিকেল ৫টায়। এক মিনিটও লেট করব না, প্রমিস!

আকাশ: (হেসে) দেখা যাবে!

(মেঘলা হাসতে হাসতে বাড়ির ভেতরে চলে যায়। আকাশ বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ে। ব্যাকগ্রাউন্ডে মিষ্টি রোমান্টিক গান বেজে ওঠে এবং আলো আস্তে আস্তে নিভে আসে।)

-সমাপ্ত-

নাটকঃ বলবো বলবো করেও_লেখকঃ কিশোর দুলাল রায়

বলবো বলবো করেও.....
কিশোর দুলাল রায়

ধরন: রোমান্টিক, ড্রামা ও ফ্যামিলি কমেডি
প্রধান চরিত্র:
আকাশ (নায়ক): একটু অন্তর্মুখী, চাপা স্বভাবের কিন্তু ভীষণ কেয়ারিং। মুখে কিছু না বললেও কাজে-কর্মে তার ভালোবাসা প্রকাশ পায়।
বৃষ্টি (নায়িকা): চঞ্চল, মিষ্টি এবং দুষ্টু স্বভাবের। আকাশকে খেপাতে পছন্দ করে, কিন্তু তাকে ছাড়া এক মুহূর্তও চলতে পারে না।
​দৃশ্য ১: সকাল, গ্রামের চায়ের দোকান / রাস্তার মোড়
​(আকাশ একটা সাইকেলের চেইনে গ্রিজ লাগাচ্ছে। এমন সময় বৃষ্টি সেখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। দুজনের চোখাচোখি হয়, কিন্তু কেউ সরাসরি তাকাচ্ছে না। চোরের মতো একে অপরকে দেখছে।)
​আকাশ: (মনে মনে) আজ শাড়ি পরেছে কেন? এমনিতেই দেখতে ভালো লাগে, আজ তো আরও... না না, আকাশের দিকে তাকালে চলবে না, কাজে মন দাও।
বৃষ্টি: (হেঁটে যেতে যেতে, মনে মনে) সাইকেল ঠিক করার এত শখ? একবারও তো তাকাতে পারছে না! একটা কথা বললে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত? খড়খড়ে কাঠ একটা!
​(বৃষ্টি ইচ্ছা করে তার হাতের রুমালটা রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে চলে যায়। আকাশ সেটা খেয়াল করে। সে সাইকেল রেখে রুমালটা তুলে নেয়। বাতাসে রুমালের সুবাস শুকতে শুকতে একটা বোকা হাসি দেয়।)
​দৃশ্য ২: দুপুর, বৃষ্টির বাড়ির উঠোন
​(বৃষ্টির মা এবং আকাশের বাবা একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছেন। উঠোনের এক কোণায় আকাশ আর বৃষ্টি দাঁড়িয়ে আছে। আকাশ একটা পেয়ারা পেড়ে বৃষ্টিকে দিচ্ছে।)
বৃষ্টি: (মুখ বাঁকিয়ে) আমি খাব না। তোমার হাতের পেয়ারা তেতো।
আকাশ: (ধমকের সুরে) ভিটামিন সি আছে, চুপচাপ খাও। দিন দিন শুকিয়ে তো শুঁটকি হয়ে যাচ্ছ।
বৃষ্টি: (পেয়ারাটা কেড়ে নিয়ে কামড় দিয়ে) আমি শুঁটকি? আর তুমি কি? তুমি একটা জলহস্তী!
​(দূরে বসে ওদের বাবা-মা এই ঝগড়া দেখছেন এবং মৃদু হাসছেন।)
বৃষ্টির মা: (নিচু স্বরে) দেখলে রহমান ভাই? মুখে কেউ কিছু বলবে না, কিন্তু সারাদিন একজন আরেকজনের পিছে লেগে থাকবে।
আকাশের বাবা: (হেসে) জানি ভাবী। এদের এই লুকোচুরি খেলা দেখতেই আমার ভালো লাগে। চলুক না, দেখি কতদূর যায়!
​দৃশ্য ৩: বিকেল, হঠাৎ মেঘলা আকাশ (টুইস্ট)
​(বৃষ্টির বাড়ির ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ এবং ব্যস্ততা শোনা যাচ্ছে। আকাশ কৌতূহল নিয়ে ওখান দিয়ে যাচ্ছিল। বৃষ্টির বাবা তাকে ডেকে ভেতরে নিলেন।)
​বৃষ্টির বাবা: আকাশ, একটা ভালো খবর আছে। বৃষ্টির মামার বাড়ির ওখান থেকে একটা খুব ভালো সম্বন্ধ এসেছে। পাত্রী হিসেবে বৃষ্টিকে ওদের পছন্দ। আগামী পরশুই বিয়ে, ওর মামার বাড়িতেই সব আয়োজন হবে। আমরা সবাই কাল সকালেই রওনা দিচ্ছি।
​(আকাশের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে। সে কিছু বলতে গিয়েও গলার কাছে কথা আটকে যায়।)
আকাশ: (অস্ফুট স্বরে) বিয়ে?... কালই চলে যাচ্ছেন?
​দৃশ্য ৪: সন্ধ্যা, নদীর ঘাট (বিদায় বেলা)
​(আকাশ একা নদীর ঘাটে বসে আছে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। এমন সময় দূর থেকে বৃষ্টি দৌড়ে আসে। তার চোখে জল। পেছনে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছেন ওদের বাবা-মা, তারা সব বুঝতে পেরেও ওদের একটু একা সময় দিচ্ছেন।)
​বৃষ্টি: (হাঁপাতে হাঁপাতে আকাশকে দেখে) তুমি এখানে বসে আছো? আর আমি তোমাকে সারা গ্রাম খুঁজছি!
আকাশ: (কণ্ঠ চেপে) শুনলাম তোমার বিয়ে। অভিনন্দন।
বৃষ্টি: (কান্না চেপে, রাগে) শুধু অভিনন্দন? এই একটা কথাই বলতে পারলে? তুমি আস্ত একটা পাথর!
​(আকাশ চুপ করে থাকে, নিচের দিকে তাকিয়ে। বৃষ্টি আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারে না। সে আচমকা দৌড়ে গিয়ে আকাশকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আকাশের বুকে মাথা রেখে ও ডুকরে কেঁদে ওঠে।)
বৃষ্টি: (কেঁদে কেঁদে) আমি চলে যাচ্ছি আকাশ... আমাকে আটকে নাও না প্লিজ! একবার বলো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো!
​(আকাশ স্তব্ধ হয়ে যায়। তার হাত দুটো কাঁপতে কাঁপতে বৃষ্টির পিঠে হাত ছোঁয়ানোর আগেই বৃষ্টি নিজেকে সামলে নেয়। সে জড়িয়ে ধরা ছেড়ে দেয় এবং চোখের জল মুছতে মুছতে উল্টো দিকে দৌড় দেয়।)
বৃষ্টি: (যেতে যেতে) ভালো থেকো! আর কোনোদিন আমার মুখ দেখতে হবে না!
​(পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ওদের বাবা-মা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বৃষ্টি চলে যাওয়ার পর আকাশ একা দাঁড়িয়ে থাকে। হঠাৎ পুরো চারপাশটা তার কাছে শূন্য মনে হয়। সে বুঝতে পারে, এত বছর ধরে যে বাতাস সে নিচ্ছিল, তার নামই ছিল 'বৃষ্টি'। ওকে ছাড়া সে বাঁচবে না।)
​দৃশ্য ৫: ক্লাইম্যাক্স (পরদিন সকাল - বিয়ের বাড়ি / পথ)
​(বৃষ্টিদের পুরো পরিবার মামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছে। আকাশ তার ঘরে একা বসে আছে। চারদিকে বৃষ্টির ফেলে যাওয়া স্মৃতি— সেই রুমালটা তার হাতে। হঠাৎ আকাশের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সে আর থাকতে পারে না।)
আকাশ: (চিৎকার করে) না! এভাবে আমি ওকে যেতে দিতে পারি না! ও শুধু আমার!
​(আকাশ ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়। তার সাইকেলটা নিয়ে প্যাডেল মারতে শুরু করে। তীব্র গতিতে সে সাইকেল চালাচ্ছে। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে সে বৃষ্টির মামার বাড়ির দিকে ছুটছে।)
​দৃশ্য ৬: শেষ দৃশ্য (মিষ্টি মিলন)
​(বৃষ্টির মামার বাড়িতে বিয়ের মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। বৃষ্টি কনের সাজে গুমsum হয়ে বসে আছে। এমন সময় আকাশ হাঁপাতে হাঁপাতে, ধুলোবালি মেখে সেখানে হাজির হয়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সে সোজা বৃষ্টির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।)
আকাশ: (বুক ফুলিয়ে, জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে) আমি তোমাকে বিয়ে করতে দেব না!
বৃষ্টি: (অবাক হয়ে) আকাশ? তুমি?
আকাশ: (সবার সামনে বৃষ্টির হাত ধরে) হ্যাঁ, আমি! আমি একটা বোকা, জলহস্তী, পাথর! কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না। আমি তোমাকে ভালোবাসি, বৃষ্টি! খুব ভালোবাসি!
​(সবাই চুপ হয়ে যায়। বৃষ্টি চোখের জল মুছে মিটিমিটি হাসতে থাকে। ঠিক তখনই পেছন থেকে বৃষ্টির বাবা আর আকাশের বাবা হেসে উঠলেন।)
​বৃষ্টির বাবা: (হেসে) যাক বাবা! অবশেষে ছেলেটার মুখ ফুটল!
আকাশ: (হতভম্ব হয়ে) মানে?
আকাশের বাবা: (আকাশের পিঠে চাপড়ে) আরে গাধা! তোর মুখ থেকে এই কথাটা বের করার জন্যই তো আমরা এই নকল বিয়ের নাটক সাজিয়েছিলাম! কোনো পাত্র-টাত্র আসেনি, তোর মামার বাড়ির এই আয়োজন আসলে তোর আর বৃষ্টির বিয়ের জন্যই!
​(আকাশ লজ্জায় লাল হয়ে যায়। বৃষ্টি মুচকি হেসে আকাশের কানে কানে বলে—)
বৃষ্টি: দুষ্টুমি তো অনেক হলো, এবার মিষ্টি করে বর সেজে এসো তো শুনি!
​(সবাই হেসে ওঠে। আকাশ আর বৃষ্টি একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসে। ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি রোমান্টিক গান বেজে ওঠে এবং স্ক্রিন ধীরে ধীরে ফেড আউট হয়ে যায়।)
​...সমাপ্ত...

গান👇

​(ছেলে):
বলবো বলবো করেও তোমায়, বলা হলো না মনের কথা,
বুকের ভেতর লুকিয়ে ছিল, মিষ্টি কিছু ব্যাকুলতা।
(মেয়ে):
তুমিও বোঝো, আমিও বুঝি— চোখের ভাষায় লুকোচুরি,
অভিমানের মেঘ জমিয়ে, কাটল যে দিন ছলাকলা।
(উভয়ে):
আজকে তবে কাটুক নীরবতা,
বলা হলো অবশেষে মনের কথা...
​🎼 অন্তরা ১ (Verse 1)
​(ছেলে):
তুমি ছাড়া এ জীবন যে, শূন্য মরুভূমি,
নিশ্বাসে মোর জড়িয়ে আছ, শুধুই শুধু তুমি।
হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার, জাগলো যখন ভয়,
পাথর বুকে ভাঙলো বাঁধন, মন তো মানে না পরাজয়!
(মেয়ে):
পথ চেয়ে মোর কাটতো প্রহর, তুমি আসবে কবে?
হাতটি ধরে বলবে ডেকে— "আমায় আগলে রাখতে হবে।"
​🎼 অন্তরা ২ (Verse 2)
​(মেয়ে):
দুষ্টুমিতে কেটেছে দিন, মিষ্টি হলো শেষটা,
তোমায় একটু খ্যাপানোরই, ছিল মধুর চেষ্টা।
(ছেলে):
হারিয়ে ফেলার ছলে দিলে, ভালোবাসার ডাক,
আমাদের এই গল্পটা আজ, মনের ফ্রেমে বন্দি থাক।
(উভয়ে):
আজকে তবে কাটুক নীরবতা,
বলা হলো অবশেষে মনের কথা...
বলবো বলবো করেও তোমায়, বলা হলো না মনের কথা।

Tuesday, 16 June 2026

গান👉 হৃদয়ে তুফান। ছড়াকার👉 কিশোর দুলাল রায়

হৃদয়ে তুফান 
কিশোর দুলাল রায় 

তোর ওই চোখের ইশারায়,
মনটা আমার উড়ে যায়।
কী যে এক জাদু করলি রে তুই,
বুকেরই ভেতর ঝড় বয়ে যায়!
​আজকে রাতে হবে না তো ঘুম,
হৃদয়ে লেগেছে প্রেমের ধুম।
আয় না কাছে, আর দূরে থাকিস না,
প্রেমের এই বাজিটা তুই হারিস না!

তুই যেন এক মিষ্টি হাওয়া,
তোর কাছেই তো সব চাওয়া।
তোর হাসিতেই মনটা হারায়,
মন যে আমার মাতাল পাড়ায়!
​হেই... দেখ না চেয়ে আমার দিকে,
তুই ছাড়া সব লাগে ফিকে।
আজকে রাতে হবে না তো ঘুম,
হৃদয়ে লেগেছে প্রেমের ধুম!

তুই আমার ধামাকা, প্রেমের ইশারা,
তোকে ছাড়া বেঁচে থাকা যে দিশাহারা।
তুই আমার ধামাকা, বুকে দিলি টান,
তোর জন্য দিয়ে দেবো আমার এই জান!

তোর ওই ঠোঁটের মিষ্টি হাসি,
আমায় করায় শুধু যে রূপসী।
কাছে আয় না ওরে আমার সোনা,
প্রেমের গল্পে হোক না নতুন সূচনা!
​রাতের তারা সাক্ষী থাক না,
মেলবো দুজনে প্রেমের ডানা।
আজকে রাতে হবে না তো ঘুম,
হৃদয়ে লেগেছে প্রেমের ধুম!

ধামাকা... প্রেমের ধামাকা!
তুই আমার বুকে দিলি টান...
তোর জন্য দিয়ে দেবো আমার এই জান!
হৃদয়ে তুফান... শুধু তুই আর আমি...
হ্যাঁ, তুই আমার সবচেয়ে দামি!

Monday, 15 June 2026

ছড়া👉ভালোবাসার প্রথম গোলাপ। ছড়াকার👉 কিশোর দুলাল রায়

ভালোবাসার প্রথম গোলাপ 
কিশোর দুলাল রায় 

আকাশ জুড়ে মেঘের মেলা, 
মনে খুশির কাঁপন,
তুমি এসে বদলে দিলে, 
আমার চেনা আপন।

মিটে গেল মনের মাঝে, 
যত ছিল ক্ষোভ-বিলাপ,
তোমার হাতেই রইলো আমার, 
ভালোবাসার প্রথম গোলাপ।
একলা রাতে চাঁদের আলো, 
লাগত বড় একা,
জানতাম না তো কবে হবে, 
তোমার সাথে দেখা।

ধূসর চুলে জড়িয়ে দিলে, 
সুখের এক আলাপ,
তোমার হাতেই রইলো আমার, 
ভালোবাসার প্রথম গোলাপ।
চোখের কোণে জমতো যে জল, 
হারিয়ে গেছে আজ,
তুমি আমার মেঘলা আকাশ, 
তুমি আমার সাজ।

ঘুচে গেল আঁধার রাতের, 
যত অনুতাপ,
তোমার হাতেই রইলো আমার, 
ভালোবাসার প্রথম গোলাপ।

জাফলং, সিলেট।

জাফলং, সিলেট।

Sunday, 14 June 2026

ছড়া👉কাল্লু মামার কাঁচি। ছড়াকার👉কিশোর দুলাল রায়

কাল্লু মামার কাঁচি

কিশোর দুলাল রায় 

​খচাখচ খচ কাঁচি চলে,

কাল্লু মামার সেলুনে,

রনি খোকন বসল গিয়ে

বিকেলের ওই বেলুনে!

​রনি বলে, "মামাগো,

চুলটা করো ছোট,"

কাল্লু মামা হেসে বলে,

"একটু চুপটি ওঠো!"

​ফিসফিসিয়ে চলে কথা,

উড়ে পড়ে চুল,

আয়না দেখে রনি খোকন

ভাবল একী ভুল!

​এদিক ওদিক ন্যাড়া মাথা,

ওপর পানে খাড়া,

এমন কাটিং দেখে খোকন

পুরোই দিশেহারা!

​কান্নামুখে রনি খোকন

চলল বাড়ির পানে,

সবাই বলে, "বাহ্ খোকন তো

নতুন সাজে জানে!"

​খুশি হয়ে রনি তখন

নাচে তা থৈ তা থৈ,

"কাল্লু মামার মতো ভালো

নাপিত আর তো কই!"

Saturday, 13 June 2026

ছড়া_তুমি আমার পহেলা বৈশাখ_ছড়াকার কিশোর দুলাল রায়


তুমি আমার পহেলা বৈশাখ 
কিশোর দুলাল রায় 

তুমি আমার নতুন বছরের প্রথম পহেলা বৈশাখ,
আমার চেনা চেনা জীবনে তুমি এক অচেনা ডাক।
রাঙা শাড়ির আঁচল যেমন বাতাসে দোলে,
তেমনি করে তুমিও যে আমায় নিলে কোলে।
তুমি আমার নতুন বছরের প্রথম পহেলা বৈশাখ...
বৈশাখী ওই মেলায় যেমন রঙের মেলা বসে,
তোমার চোখের এক ইশারায় মন যে আমার হাসে।
হাতে তোমার কাঁচের চুড়ি, কপালে ওই লাল টিপ,
আমার অন্ধকার এই মনে তুমি জ্বেলে দিলে প্রদীপ।
তুমি আমার নতুন বছরের প্রথম পহেলা বৈশাখ...
নতুন দিনের নতুন সূর্য যেমন আলো ছড়ায়,
তোমার ছোঁয়া আমার বুকে এক নতুন আশার গান গায়।
পুরোনো সব দুঃখ-গ্লানি যাক না ধুয়ে যাক,
আমাদের এই প্রেমের গল্প অমর হয়ে থাক।
তুমি আমার রোদ-বৃষ্টি, তুমিই চৈত্রের শেষ রাত,
নতুন বছরের প্রথম সকালে তোমার হাতেই আমার হাত।
তুমি আমার নতুন বছরের প্রথম পহেলা বৈশাখ,
আমার চেনা চেনা জীবনে তুমি এক অচেনা ডাক।

ছড়া_বৃষ্টির নূপুর_ছড়াকার_কিশোর দুলাল রায়

বৃষ্টির নূপুর
কিশোর দুলাল রায় 

​ঝমঝমঝম বৃষ্টি নামে,
মেঘের মাদল বাজে,
বকুল তলায় কদম হাসে
নতুন কনের সাজে। 

​ব্যাঙের দল ওই ডাকছে জোরে,
ঘেঁষছে না কেউ ঘর,
পুকুর পাড়ে হাসছে দেখো
কচি কলাপাতা থরথর।

​মাঠের মাঝে কৃষক ভাই
ভিজছে মনের সুখে,
ঠাণ্ডা হাওয়ায় শান্তির রেখা
সবার হাসি মুখে।

​খোকা বানায় কাগজের নাও,
ভাসায় জলের টানে,
বৃষ্টির সুর লুকিয়ে আছে
মাটির গভীর গানে।

#kishordulalroy #ছড়া #banglasong

ছড়া_বাবার আঙুল ধরে_ছড়াকার_কিশোর দুলাল রায়

বাবার আঙুল ধরে 
কিশোর দুলাল রায় 

ছোট্ট দুটি হাত বাড়িয়ে, 
দিলে যখন ডাক
আমার সারা পৃথিবীটা,
 থমকে গিয়ে থাক।

বাবার আঙুল শক্ত করে, 
ধরলি যখন তুই
মনে হলো আকাশটাকে, 
আজ আমিই ছুঁই।

তোর হাসিতেই শুরু আমার, 
মিষ্টি কোনো ভোর
সারাটা দিন কাটবে ভালো, 
মায়ায় বাঁধা তোর।

আঁচল ধরে পিছু পিছু, 
করিস যখন আড়ি
মুহূর্তে সব ক্লান্তি ভুলে, 
দিই সুখেরই পাড়ি।

তোর চোখের ওই কাজল কালো, 
স্নিগ্ধ মেঘের ছায়া
বাবার বুকেই জমিয়ে রাখিস, 
এক সমুদ্র মায়া।

একটু একটু বড় হবি, 
পাল্টে যাবে দিন
আসবো ফিরে আপন নীড়ে, 
শোধ হবে না ঋণ।

একদিন হয়তো যাবি দূরে, 
নতুন কোনো ঘরে
বাবার দুচোখ ঝাপসা হবে, 
তোরই কথা স্মরে।

তবুও তুই থাকবি মিশে, 
আমার প্রাণের সুর
তোর জন্য এই আশীর্বাদ থাক-
পথটা হোক রোদ্দুর।
তুই যে আমার ছোট্ট পরি, 
আমার শ্রেষ্ঠ দান
তোকে নিয়েই বেঁচে থাকার, 
সহস্র এক গান।

ছড়া_মাটির টানে মিঠুরকান্দি

মাটির টানে মিঠুরকান্দি 
কিশোর দুলাল রায় 

চাঁদপুর জেলার বুক চিরে ভাই, 
মতলব উত্তর থানা
আমার সোনাঝরা সেই গ্রামখানি, 
সবার অতি চেনা।

সবুজ শ্যামল মায়ার আচল, 
স্নিগ্ধ সুবাস মাখা—
হৃদয় জুড়ে মিঠুরকান্দি, 
ছবির মতো আঁকা।
ও আমার মিঠুরকান্দি, 
প্রাণের মাঝে আঁকা।
মেঘনা নদীর শীতল হাওয়া 
বয় যে গাঁয়ের গায়
রাখাল ছেলে বাঁশি বাজায় 
বটবৃক্ষের ছায়।

ফসলি মাঠের সোনালি রঙ, 
রোদে ঝিলমিল করে
শান্ত সুখের এই ঠিকানায়, 
মনটা শুধু ভরে।

আমার মাটির মায়ায় ঘেরা, 
মিঠুরকান্দি গ্রাম
জপতে থাকি মনে মনে, 
প্রিয় তোমার নাম।
পুকুর ঘাটে গাঁয়ের বধূ, 
কলস ভরে জল
উঠান জুড়ে হাসছে শিশু, 
আনন্দ কলরল।

পাখিদের গুঞ্জন কানে আসে, 
স্নিগ্ধ ভোরে ভাই
এমন মায়ার শান্ত ভূমি, 
আর তো কোথাও নাই।

আপন মানুষ, সহজ সরল, 
সবার মনে প্রীতি—
মিঠুরকান্দির মানুষগুলো, 
ভালোবাসা আর নীতি।
যেখানেই যাই যেথায় থাকি, 
ভুলতে তোমায় নারি
স্মৃতির পাতায় অমলিন রয়, 
প্রিয় জন্মভিটা বাড়ি।

চাঁদপুর আমার অহংকার ভাই, 
মতলবের ঐ শান—
মিঠুরকান্দি গ্রামটি আমার, 
পরান ভরা গান।
সবুজ শ্যামল মায়ার আচল, 
স্নিগ্ধ সুবাস মাখা—
হৃদয় জুড়ে মিঠুরকান্দি, 
ছবির মতো আঁকা।
ও আমার মিঠুরকান্দি, 
প্রাণের মাঝে আঁকা।
#kishordulalroy #ছড়া #banglasong

Friday, 12 June 2026

ছড়া_তোর চোখের মায়ায়

তোর চোখের মায়ায় 
কিশোর দুলাল রায় 

তোর চোখের মায়ায় পইড়া আমি
হয়ে গেছি নিঃশেষ,
বুঝলাম না রে কোন জাদুতে
বদল পেলি বেশ।

তুই বুক গভীরে ঝড় তুলিলি,
মন যে ব্যাকুল আজ,
তোর হাসিতেই হারিয়ে ফেলেছি
আমার যত কাজ।
​কাজল কালো ওই দু'টি চোখ
যেন মেঘে ঢাকা রাত,
ইশারাতে ডাকিস যখন
বাড়াই ব্যাকুল হাত।

কী এক নেশা জড়িয়ে আছে
তোর ওই চোখের চাওয়ায়,
মনটা আমার উথাল-পাথাল
প্রেমের মাতাল হাওয়ায়।
​তোর চোখের মায়ায় পইড়া আমি
হয়ে গেছি নিঃশেষ,
বুঝলাম না রে কোন জাদুতে
বদল পেলি বেশ।

​তোর কারণে একলা রাতে
ঘুম আসে না চোখে,
হাজারো সুখের একটা নদী
বইছে আমার বুকে।

তুই যদি চাস দেবো সঁপে
আমার এ জীবন,
তোর মায়াতেই বন্দী থাকুক
আমার অবুঝ মন।

​নিঃশেষ হয়েও আমি যে আজ
হতে চাই তোর শুরু,
তোর ছোঁয়াতে কাঁপুক রে এই
বুকের দুরুদুরু।

#kishordulalroy #ছড়া #banglasong #song #বাংলাগান

Thursday, 11 June 2026

ছড়া_হৃদয়ের নীল দিগন্তে

হৃদয়ের নীল দিগন্তে 
কিশোর দুলাল রায় 

হৃদয়ের নীল দিগন্তে তুমি 
ভোরের স্নিগ্ধ আলো,
অবুঝ মনের সকল আবেগ, 
তোমায় বেসেছি ভালো।

যতদূর চোখ যায় আমার, 
দেখি তোমারই ছবি আঁকা,
তুমি হীনা এই জীবন যেন 
একলা পথে একা থাকা।

এক আকাশ মায়া নিয়ে 
নামো আমারই উঠোনে,
হাজার তারার ভিড়ে তোমায় 
খুঁজি নিভৃত কোণে।

তোমার মায়ায় ঘেরা চোখে 
শান্ত শীতল নদী,
সুখ খুঁজে পাই আমি 
তোমার পাশে থাকি যদি।
স্বপ্নগুলো ডানা মেলে 
তোমারই পানে চায়,
ভালোবাসার রঙিন সুতোয় 
মন যে হারিয়ে যায়।

না বলা সব কথার মাঝে 
তুমিই শেষ কথা,
তুমি আছো বলেই ঘুচে যায় 
সব মনের নীরব ব্যথা।
শরৎ মেঘের ভেলা হয়ে 
ভাসি তোমার আকাশে,
সুখ-পাখিটা গান গেয়ে যায় 
মৃদু স্নিগ্ধ বাতাসে।

জন্ম জন্মান্তর এভাবেই 
থেকো আমার হয়ে,
গল্পগুলো পূর্ণ হোক 
প্রেমের জোয়ার বয়ে।

#kishordulalroy #ছড়া #banglasong

ছড়া_মাটির ঋণ

মাটির ঋণ
কিশোর দুলাল রায়

সবুজে শ্যামলে ঘেরা
আমার সোনার গাঁ
মায়ের আঁচল বিছানো
এই আমার বাংলা।

বুকের গভীর থেকে জাগে
একটিই সুর—
মা গো,তোমার মায়ায় জুড়ায়
দুচোখ বহুদূর।

পদ্মা-মেঘনা-যমুনা যার
শিরায় শিরায় বয়,
যাঁর দামাল ছেলের রক্তে
কেনা শ্রেষ্ঠ বিজয়।

একুশের সেই বর্ণমালায়
প্রাণের স্পন্দন,
মাটির টানেই বাঁধা আছে
এই জীবনের বন্ধন।

ভোরের পাখি গাইছে গান
শিমুল-পলাশ বনে,
তোমার ছবি আঁকা আছে
প্রতিটি বাঙালির মনে।

হাজার বছর বেঁচে থাকুক
তোমার জয়গান,
তুমিই তো মা আমাদের
সবার গর্ব, সবার মান।

লাখো শহীদের আত্মত্যাগে
পেয়েছি এই ভূমি,
বিশ্বের বুকে মস্তক আমার
উঁচিয়ে রাখো তুমি।

যতদিন রবে চন্দ্র-সূর্য,
রইবে আমার দেশ,
তোমার তরেই সঁপে দেব
এ প্রাণের অবশেষ।

সবুজে শ্যামলে ঘেরা
আমার সোনার গাঁ
মায়ের আঁচল বিছানো
এই আমার বাংলা।

জয় বাংলা, জয় বাংলা,
আমার প্রিয় দেশ—
তোমার মাঝেই খুঁজে পাই
সুখের অন্তহীন রেশ।

#kishordulalroy #ছড়া #banglasong

ছড়া_সোনালী সকাল

সোনালী সকাল 
কিশোর দুলাল রায় 

ঝরলো আলো আকাশ ছেয়ে, 
সোনালী এক ভোরে,
পাখির ডানায় গান জাগলো, 
মন যে কেমন করে। 

ঘুম ভেঙেছে সবুজ ঘাসে, 
শিশির কণায় হাসে,
একটি নতুন দিনের শুরু, 
মিষ্টি হাওয়া ভাসে।
মেঘে মেঘে রোদের ছোঁয়া, 
আলতো করে মাখা,
দিগন্তের ওই ক্যানভাসেতে 
স্বপ্ন যেন আঁকা।

ক্লান্তি ভুলে এক নিমেষে 
মনটা ডানা মেলে,
আজকে চলি আলোর পথে, 
সব আঁধারকে ফেলে।
ঝরলো আলো আকাশ ছেয়ে, 
সোনালী এক ভোরে,
পাখির ডানায় গান জাগলো, 
মন যে কেমন করে।
নতুন আশার এই আলোতে 
দুঃখ যাক না ধুয়ে,
যাবো আমি আজকে সুদূর, 
নীল আকাশকে ছুঁয়ে।

নদীর বুকে সোনার তরী, 
বইছে মৃদু বায়ে,
জেগে উঠলো জীবন আবার, 
শহর থেকে গাঁয়ে।
সোনালী এই সকাল আমার, 
নতুন চাওয়া মনে,
পথ চলা আজ শুরু হলো, 
এই তো শুভক্ষণে।

Tuesday, 9 June 2026

ছড়াঃ- শরৎ


শরৎ
কিশোর দুলাল রায়

নীল আকাশে ভাসে
সাদা মেঘের ভেলা,
পুব আকাশে সূর্য হাসে
শিশুরা করে খেলা ।
দক্ষিণা বাতাস বহে
হাওয়ায় দোলে কাঁশফুল,
স্রোত বহে আপন ধারায়
নদী হারায় দুই কূল ।
বর্ষার পর শরৎ আসে
জীবন তোলে জাগিয়ে,
মিষ্টি মধুর রূপ দিয়ে
মনকে তোলে সাজিয়ে ।
শারদীয় শরৎ নিশি
তাঁরায় করে খেলা,
শরতের আকাশে পূর্ণিমা
মন করে আত্মভোলা ।।

বিঃ দ্রঃ ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০৬ইং দৈনিক
বাংলাবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ।

ছড়াঃ- বাংলা ভাষা


বাংলা ভাষা
কিশোর দুলাল রায়

বাংলা আমার লক্ষ্য শহীদের
লক্ষ্য প্রাণের আশা,
বাংলা আমার মমতাময়ী
মায়ের ভালোবাসা ।
ভালো লাগে আমার
মায়ের বাংলা বুলি,
বাংলা আমার নীল আকাশে
রং করা এক তুলি ।
যুদ্ধের কথা শুনলে আমি
দুঃখ পাই নিজে,
বাংলা ভাষায় কথা বলি
মধুর লাগে কি যে ।
ভাষার জন্য যারা জীবন
করে গেলে দান,
তোমাদের জানাই আমরা
শ্রদ্ধা ও সন্মান ।।

বিঃ দ্রঃ এই ছড়াটি ৫ই
ফেব্রুয়ারী ২০০৭ইং দৈনিক বাংলাবাজার
পত্রিকায় প্রকাশিত ।