বলবো বলবো করেও.....
কিশোর দুলাল রায়
ধরন: রোমান্টিক, ড্রামা ও ফ্যামিলি কমেডি
প্রধান চরিত্র:
আকাশ (নায়ক): একটু অন্তর্মুখী, চাপা স্বভাবের কিন্তু ভীষণ কেয়ারিং। মুখে কিছু না বললেও কাজে-কর্মে তার ভালোবাসা প্রকাশ পায়।
বৃষ্টি (নায়িকা): চঞ্চল, মিষ্টি এবং দুষ্টু স্বভাবের। আকাশকে খেপাতে পছন্দ করে, কিন্তু তাকে ছাড়া এক মুহূর্তও চলতে পারে না।
দৃশ্য ১: সকাল, গ্রামের চায়ের দোকান / রাস্তার মোড়
(আকাশ একটা সাইকেলের চেইনে গ্রিজ লাগাচ্ছে। এমন সময় বৃষ্টি সেখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। দুজনের চোখাচোখি হয়, কিন্তু কেউ সরাসরি তাকাচ্ছে না। চোরের মতো একে অপরকে দেখছে।)
আকাশ: (মনে মনে) আজ শাড়ি পরেছে কেন? এমনিতেই দেখতে ভালো লাগে, আজ তো আরও... না না, আকাশের দিকে তাকালে চলবে না, কাজে মন দাও।
বৃষ্টি: (হেঁটে যেতে যেতে, মনে মনে) সাইকেল ঠিক করার এত শখ? একবারও তো তাকাতে পারছে না! একটা কথা বললে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত? খড়খড়ে কাঠ একটা!
(বৃষ্টি ইচ্ছা করে তার হাতের রুমালটা রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে চলে যায়। আকাশ সেটা খেয়াল করে। সে সাইকেল রেখে রুমালটা তুলে নেয়। বাতাসে রুমালের সুবাস শুকতে শুকতে একটা বোকা হাসি দেয়।)
দৃশ্য ২: দুপুর, বৃষ্টির বাড়ির উঠোন
(বৃষ্টির মা এবং আকাশের বাবা একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছেন। উঠোনের এক কোণায় আকাশ আর বৃষ্টি দাঁড়িয়ে আছে। আকাশ একটা পেয়ারা পেড়ে বৃষ্টিকে দিচ্ছে।)
বৃষ্টি: (মুখ বাঁকিয়ে) আমি খাব না। তোমার হাতের পেয়ারা তেতো।
আকাশ: (ধমকের সুরে) ভিটামিন সি আছে, চুপচাপ খাও। দিন দিন শুকিয়ে তো শুঁটকি হয়ে যাচ্ছ।
বৃষ্টি: (পেয়ারাটা কেড়ে নিয়ে কামড় দিয়ে) আমি শুঁটকি? আর তুমি কি? তুমি একটা জলহস্তী!
(দূরে বসে ওদের বাবা-মা এই ঝগড়া দেখছেন এবং মৃদু হাসছেন।)
বৃষ্টির মা: (নিচু স্বরে) দেখলে রহমান ভাই? মুখে কেউ কিছু বলবে না, কিন্তু সারাদিন একজন আরেকজনের পিছে লেগে থাকবে।
আকাশের বাবা: (হেসে) জানি ভাবী। এদের এই লুকোচুরি খেলা দেখতেই আমার ভালো লাগে। চলুক না, দেখি কতদূর যায়!
দৃশ্য ৩: বিকেল, হঠাৎ মেঘলা আকাশ (টুইস্ট)
(বৃষ্টির বাড়ির ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ এবং ব্যস্ততা শোনা যাচ্ছে। আকাশ কৌতূহল নিয়ে ওখান দিয়ে যাচ্ছিল। বৃষ্টির বাবা তাকে ডেকে ভেতরে নিলেন।)
বৃষ্টির বাবা: আকাশ, একটা ভালো খবর আছে। বৃষ্টির মামার বাড়ির ওখান থেকে একটা খুব ভালো সম্বন্ধ এসেছে। পাত্রী হিসেবে বৃষ্টিকে ওদের পছন্দ। আগামী পরশুই বিয়ে, ওর মামার বাড়িতেই সব আয়োজন হবে। আমরা সবাই কাল সকালেই রওনা দিচ্ছি।
(আকাশের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে। সে কিছু বলতে গিয়েও গলার কাছে কথা আটকে যায়।)
আকাশ: (অস্ফুট স্বরে) বিয়ে?... কালই চলে যাচ্ছেন?
দৃশ্য ৪: সন্ধ্যা, নদীর ঘাট (বিদায় বেলা)
(আকাশ একা নদীর ঘাটে বসে আছে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। এমন সময় দূর থেকে বৃষ্টি দৌড়ে আসে। তার চোখে জল। পেছনে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছেন ওদের বাবা-মা, তারা সব বুঝতে পেরেও ওদের একটু একা সময় দিচ্ছেন।)
বৃষ্টি: (হাঁপাতে হাঁপাতে আকাশকে দেখে) তুমি এখানে বসে আছো? আর আমি তোমাকে সারা গ্রাম খুঁজছি!
আকাশ: (কণ্ঠ চেপে) শুনলাম তোমার বিয়ে। অভিনন্দন।
বৃষ্টি: (কান্না চেপে, রাগে) শুধু অভিনন্দন? এই একটা কথাই বলতে পারলে? তুমি আস্ত একটা পাথর!
(আকাশ চুপ করে থাকে, নিচের দিকে তাকিয়ে। বৃষ্টি আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারে না। সে আচমকা দৌড়ে গিয়ে আকাশকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আকাশের বুকে মাথা রেখে ও ডুকরে কেঁদে ওঠে।)
বৃষ্টি: (কেঁদে কেঁদে) আমি চলে যাচ্ছি আকাশ... আমাকে আটকে নাও না প্লিজ! একবার বলো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো!
(আকাশ স্তব্ধ হয়ে যায়। তার হাত দুটো কাঁপতে কাঁপতে বৃষ্টির পিঠে হাত ছোঁয়ানোর আগেই বৃষ্টি নিজেকে সামলে নেয়। সে জড়িয়ে ধরা ছেড়ে দেয় এবং চোখের জল মুছতে মুছতে উল্টো দিকে দৌড় দেয়।)
বৃষ্টি: (যেতে যেতে) ভালো থেকো! আর কোনোদিন আমার মুখ দেখতে হবে না!
(পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ওদের বাবা-মা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বৃষ্টি চলে যাওয়ার পর আকাশ একা দাঁড়িয়ে থাকে। হঠাৎ পুরো চারপাশটা তার কাছে শূন্য মনে হয়। সে বুঝতে পারে, এত বছর ধরে যে বাতাস সে নিচ্ছিল, তার নামই ছিল 'বৃষ্টি'। ওকে ছাড়া সে বাঁচবে না।)
দৃশ্য ৫: ক্লাইম্যাক্স (পরদিন সকাল - বিয়ের বাড়ি / পথ)
(বৃষ্টিদের পুরো পরিবার মামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছে। আকাশ তার ঘরে একা বসে আছে। চারদিকে বৃষ্টির ফেলে যাওয়া স্মৃতি— সেই রুমালটা তার হাতে। হঠাৎ আকাশের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সে আর থাকতে পারে না।)
আকাশ: (চিৎকার করে) না! এভাবে আমি ওকে যেতে দিতে পারি না! ও শুধু আমার!
(আকাশ ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়। তার সাইকেলটা নিয়ে প্যাডেল মারতে শুরু করে। তীব্র গতিতে সে সাইকেল চালাচ্ছে। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে সে বৃষ্টির মামার বাড়ির দিকে ছুটছে।)
দৃশ্য ৬: শেষ দৃশ্য (মিষ্টি মিলন)
(বৃষ্টির মামার বাড়িতে বিয়ের মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। বৃষ্টি কনের সাজে গুমsum হয়ে বসে আছে। এমন সময় আকাশ হাঁপাতে হাঁপাতে, ধুলোবালি মেখে সেখানে হাজির হয়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সে সোজা বৃষ্টির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।)
আকাশ: (বুক ফুলিয়ে, জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে) আমি তোমাকে বিয়ে করতে দেব না!
বৃষ্টি: (অবাক হয়ে) আকাশ? তুমি?
আকাশ: (সবার সামনে বৃষ্টির হাত ধরে) হ্যাঁ, আমি! আমি একটা বোকা, জলহস্তী, পাথর! কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না। আমি তোমাকে ভালোবাসি, বৃষ্টি! খুব ভালোবাসি!
(সবাই চুপ হয়ে যায়। বৃষ্টি চোখের জল মুছে মিটিমিটি হাসতে থাকে। ঠিক তখনই পেছন থেকে বৃষ্টির বাবা আর আকাশের বাবা হেসে উঠলেন।)
বৃষ্টির বাবা: (হেসে) যাক বাবা! অবশেষে ছেলেটার মুখ ফুটল!
আকাশ: (হতভম্ব হয়ে) মানে?
আকাশের বাবা: (আকাশের পিঠে চাপড়ে) আরে গাধা! তোর মুখ থেকে এই কথাটা বের করার জন্যই তো আমরা এই নকল বিয়ের নাটক সাজিয়েছিলাম! কোনো পাত্র-টাত্র আসেনি, তোর মামার বাড়ির এই আয়োজন আসলে তোর আর বৃষ্টির বিয়ের জন্যই!
(আকাশ লজ্জায় লাল হয়ে যায়। বৃষ্টি মুচকি হেসে আকাশের কানে কানে বলে—)
বৃষ্টি: দুষ্টুমি তো অনেক হলো, এবার মিষ্টি করে বর সেজে এসো তো শুনি!
(সবাই হেসে ওঠে। আকাশ আর বৃষ্টি একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসে। ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি রোমান্টিক গান বেজে ওঠে এবং স্ক্রিন ধীরে ধীরে ফেড আউট হয়ে যায়।)
...সমাপ্ত...
গান👇
(ছেলে):
বলবো বলবো করেও তোমায়, বলা হলো না মনের কথা,
বুকের ভেতর লুকিয়ে ছিল, মিষ্টি কিছু ব্যাকুলতা।
(মেয়ে):
তুমিও বোঝো, আমিও বুঝি— চোখের ভাষায় লুকোচুরি,
অভিমানের মেঘ জমিয়ে, কাটল যে দিন ছলাকলা।
(উভয়ে):
আজকে তবে কাটুক নীরবতা,
বলা হলো অবশেষে মনের কথা...
🎼 অন্তরা ১ (Verse 1)
(ছেলে):
তুমি ছাড়া এ জীবন যে, শূন্য মরুভূমি,
নিশ্বাসে মোর জড়িয়ে আছ, শুধুই শুধু তুমি।
হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার, জাগলো যখন ভয়,
পাথর বুকে ভাঙলো বাঁধন, মন তো মানে না পরাজয়!
(মেয়ে):
পথ চেয়ে মোর কাটতো প্রহর, তুমি আসবে কবে?
হাতটি ধরে বলবে ডেকে— "আমায় আগলে রাখতে হবে।"
🎼 অন্তরা ২ (Verse 2)
(মেয়ে):
দুষ্টুমিতে কেটেছে দিন, মিষ্টি হলো শেষটা,
তোমায় একটু খ্যাপানোরই, ছিল মধুর চেষ্টা।
(ছেলে):
হারিয়ে ফেলার ছলে দিলে, ভালোবাসার ডাক,
আমাদের এই গল্পটা আজ, মনের ফ্রেমে বন্দি থাক।
(উভয়ে):
আজকে তবে কাটুক নীরবতা,
বলা হলো অবশেষে মনের কথা...
বলবো বলবো করেও তোমায়, বলা হলো না মনের কথা।

No comments:
Post a Comment